US military attack
Bengal Liberty: শাসকবিরোধী বিক্ষোভে একদিকে ইরানের (Iran) পরিস্থিতি অশান্ত, অপরদিকে ঠিক সেই সময়েই পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) সামরিক উত্তেজনা আরও এক ধাপ বাড়াল আমেরিকা (America)। সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটস (isis)-এর বিরুদ্ধে শনিবার আকাশপথে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী (US Army)। একাধিক দফায় অন্তত ৩৫টি নিশানাতে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command) (US military attack ISIS base in Syria)।

হামলার পরিসংখ্যান (US military attack)
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমথি হকিন্স (Captain Timothy Hawkins) জানিয়েছেন, এই অভিযানে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আইএস-এর ঘাঁটি, অস্ত্র মজুতের জায়গা, যাতায়াতের পথ এবং পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নেয় এফ-১৫ই (F-15E) , এ-১০ (A-10) এবং এসি-১৩০জে (AC-130G) গানশিপ-সহ মোট ২০টি যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং জর্ডনের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ৩৫টি নিশানায় ৯০টিরও বেশি বোমা ফেলা হয়েছে।
অভিযানের কারণ কী?
দীর্ঘ দিন ধরেই সিরিয়া (Syria) থেকে আইএস নির্মূলে সক্রিয় আমেরিকা। গত মাসে পালমিরা শহরে জঙ্গি হামলায় দু’জন মার্কিন সেনা আধিকারিক এবং এক মার্কিন নাগরিক নিহত হন। তাঁরা সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী একটি কার্যক্রমকে সমর্থন জানাতে গিয়েছিলেন। ওই হামলার দায় আইএস-এর উপর চাপায় মার্কিন বাহিনী। ঘটনার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিশোধের বার্তা

দেন।
হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের বার্তা
ক্যাপ্টেন টিমথি হকিন্স জানিয়েছেন, আইএস-এর সামরিক ও লজিস্টিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আইএস-কে সম্পূর্ণ নির্মূল করা এবং ভবিষ্যতে জঙ্গি হামলা ঠেকানোই আমাদের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আমেরিকা ও তাদের মিত্র দেশগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করাও এই অভিযানের উদ্দেশ্য।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সিরিয়ার শাসক বাশার-আল আসাদের (Bashar al-Assad) পতনের পর এই প্রথম সেখানে কোনও আমেরিকান নাগরিক নিহত হন। এর পরই গত ২০ ডিসেম্বর এবং ২৬ ডিসেম্বর সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ২৬ ডিসেম্বরের অভিযানে আইএস-এর পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ নেতা ধিয়া জাওবা মুসলি আল-হারদানি (Dhiya Jawba Musli Al-Hardani) এবং তাঁর দুই পুত্র নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে মার্কিন বাহিনী। শনিবারের হামলাকে সেই ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক অভিযানেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
