Bengal Liberty Desk:
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পাল্টা মিসাইল হামলায় কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ইরান মিসাইল আশঙ্কায় বাতিল করা হয়েছে দুবাইয়ের একাধিক বিমান।
ইরানের মিনাব এলাকায় একটি স্কুলে ইজরায়েলের মিসাইল আঘাত হেনেছে। ঘটনায় অন্তত ৮০ জন পড়ুয়ার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। যদিও সরকারি স্তরে হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
#BREAKING: Explosion at Dubai landmark The Palm Jumeirah. UAE intercepting third wave of Iranian missiles and drones. pic.twitter.com/UBzQcEATaU
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) February 28, 2026
কুয়েতে বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা Israel Iran war
কুয়েতে অবস্থিত ইতালির একটি বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও হামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে সামরিক উত্তেজনা যে দ্রুত বাড়ছে তা স্পষ্ট। এমনকি খালি করা হয়েছে বুর্জ খলিফা। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মাঝে চটজলদি খালি করা হলো দুবাইয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে পাম জুমেইরাহ এলাকাতেও। শুধু দুবাই নয়, সংলগ্ন আবু ধাবিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, শনিবার দুপুর থেকেই দুবাইয়ের দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। আমিরশাহী ছাড়াও কুয়েত , কাতার , ইরাক, সৌদি আরবের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ইরানের ইসলামি রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-ঘনিষ্ঠ Tasnim News Agency জানিয়েছে, কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য পথ। বিশ্বে উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়।
সূত্রের খবর, আইআরজিসির পক্ষ থেকে জাহাজগুলিকে বার্তা পাঠানো হয়েছে—নতুন করে কোনও জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। যুক্তরাজ্যের UK Maritime Trade Operations (UKMTO)-ও সতর্কবার্তার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

ভারতীয়দের সতর্কবার্তা Israel Iran war
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারত সরকার। ইজরায়েলে অবস্থানরত ভারতীয়দের জন্য নয়াদিল্লি থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেফটি প্রোটোকল মেনে চলা এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা আছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘন হচ্ছে।

