Harish Rana
Bengal Liberty Desk, ১১ মার্চ: দীর্ঘ ১৩ বছরের লড়াই, অমানুষিক শারীরিক যন্ত্রণা আর নিথর বিছানায় পড়ে থাকা এক অবশ শরীরের অবশেষে মুক্তি মিলতে চলেছে। ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক মাইলফলক তৈরি করে ৩২ বছর বয়সী যুবক হরীশ রানাকে ‘মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু’র অধিকার দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ২০১৮ সালে নিষ্কৃতি মৃত্যুকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার পর, এই প্রথম কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার সরাসরি নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Harish Rana)।
যে দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল সব (Harish Rana)!

২০১৩ সাল। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হরীশ রানা হস্টেলের চার তলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর চোট পান। সেই থেকে তিনি ‘পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা পুরোপুরি অচেতন অবস্থায় শয্যাশায়ী। নলের মাধ্যমে খাবার এবং কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যেই টিকে ছিল তাঁর নিছক প্রাণটুকু। গত ১৩ বছর ধরে তিনি ছিলেন অন্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ এক দশকেও তাঁর শরীরের কোনও উন্নতি দেখা যায়নি, বরং ক্ষত আরও গভীর হয়েছে।
আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও ‘হ্যামলেট’-এর প্রসঙ্গ (Harish Rana)
এই মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা শেক্সপিয়রের কালজয়ী নাটক ‘হ্যামলেট’-এর সেই বিখ্যাত পঙক্তি— ‘টু বি অর নট টু বি’ (থাকা না থাকা নিয়ে সংশয়) উল্লেখ করেন। আদালত সাফ জানায়, এভাবে কৃত্রিম উপায়ে একটি প্রাণকে টিকিয়ে রাখা অর্থহীন, যেখানে সেরে ওঠার কোনো আশাই নেই। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “ঈশ্বর কাউকে জিজ্ঞাসা করেন না যে সে জীবন গ্রহণ করবে কি না, কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়ার অধিকার মানুষের থাকা উচিত।”
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দিল্লির ‘এইমস’ (AIIMS)-এ হরীশকে ভর্তি করতে হবে। সেখানে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে তাঁর শরীর থেকে যাবতীয় কৃত্রিম নল ও জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হবে।
বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াইকে সেলাম (Harish Rana)

ছেলের এই করুণ পরিণতি দেখে বুক ফেটে যাচ্ছিল বৃদ্ধ বাবা-মায়ের। তাঁরাই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ছেলের কষ্ট লাঘবের জন্য এই ‘পরোক্ষ মৃত্যু’র আরজি জানিয়েছিলেন। বিচারপতিরা তাঁদের এই দীর্ঘ ত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, “কাউকে ভালোবাসা মানে অন্ধকারের দিনেও তাঁর পাশে থাকা।” ১৩ বছর ধরে তাঁরা এক মুহূর্তের জন্যও ছেলের পাশ থেকে সরেননি।
আইন আনার পরামর্শ (Harish Rana)!
শীর্ষ আদালত কেবল রায় দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী আইন আনার কথাও বিবেচনা করতে বলেছে।
আরও পড়ুন-
SIR Voter Verification : SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ, ভোটার তালিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুজয় পালের হাতে
SIR Case Supreme Court: SIR ইস্যুতে ফের সুপ্রিম কোর্টে মমতা! বারবার মামলা তুলে ‘প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার চেষ্টা’, রাজ্যকে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের
দীর্ঘ ক্লান্তিকর এক যাত্রার শেষে এবার শান্তির ঘুমের দেশে পাড়ি দেবেন হরীশ। তাঁর এই প্রস্থান কেবল একটি জীবনের শেষ নয়, বরং ভারতের বিচারব্যবস্থায় মানবিকতার এক নতুন দিক উন্মোচন করল।

