West Bengal GI Tag
Bengal Liberty
বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির(West Bengal GI Tag) ঝুলিতে ফের বড় সাফল্য। একসঙ্গে পাঁচটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও খাদ্যপণ্য পেল ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (Geographical Indication) ট্যাগ।

নতুন এই তালিকায় রয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস ও বেলিয়াতরের মেচা সন্দেশ, বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঁসা-পিতল শিল্প এবং পূর্ব বর্ধমানের কাঠের পুতুল। এই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই পণ্যগুলির পরিচিতি যেমন বাড়বে, তেমনই উপকৃত হবেন হাজার হাজার কারিগর ও শিল্পী।
কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল(West Bengal GI Tag)
কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল খ্যাতি বহু পুরোনো। সাধারণ মাটি দিয়ে হাতে তৈরি এই পুতুলগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—মানুষের মুখভঙ্গি, পোশাক ও দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্যকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা। সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং নিখুঁত রঙের ব্যবহারের জন্য এই শিল্প বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস(West Bengal GI Tag)
বাংলার অন্যতম প্রাচীন লোকশিল্প। গোলাকার এই তাস কাগজের একাধিক স্তর, পুরোনো কাপড় ও প্রাকৃতিক আঠা দিয়ে হাতে তৈরি করা হয়। পরে শিল্পীরা সেখানে নিখুঁত হাতে আঁকেন ভগবান বিষ্ণুর দশ অবতারের ছবি। একসময় রাজপরিবারে এই তাস দিয়ে বিশেষ ধরনের খেলা হতো। আজও সেই ঐতিহ্য মেনে প্রতিটি তাস হাতেই তৈরি হয়।

বাঁকুড়ার বেলিয়াতরের মেচা সন্দেশ(West Bengal GI Tag)
অন্য সব সন্দেশের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ছানা, চিনি ও ঘি দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি প্রথমে বিশেষভাবে পাকানো হয়, তারপর হালকা ভেজে তার ওপর চিনির সিরার প্রলেপ দেওয়া হয়। বাইরে হালকা শক্ত ও মচমচে এবং ভেতরে নরম—এই অনন্য স্বাদই মেচা সন্দেশকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ভালো থাকার কারণেও এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক।
আরো পড়ুন:-
100 Days Work: নতুন প্রকল্পে বাংলার জন্য ১২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের
কাঁসা-পিতল শিল্প(West Bengal GI Tag)
কাঁসা-পিতল শিল্প বাংলার ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাঁসা ও পিতলের সংকর ধাতু গলিয়ে থালা, বাটি, গ্লাস, প্রদীপ, পূজার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা জিনিস তৈরি করেন কারিগরেরা।

হাতুড়ির সূক্ষ্ম আঘাতে প্রতিটি সামগ্রীকে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া হয়, যা এই শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য। উজ্জ্বল রং, সরল নকশা এবং লোকজ ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। গামারি বা অন্যান্য হালকা কাঠ খোদাই করে বিভিন্ন চরিত্র, পশুপাখি ও লোকজীবনের প্রতিরূপ তৈরি করা হয়। প্রতিটি পুতুলেই ফুটে ওঠে বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি ও আদি শিল্পচর্চার ছাপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই ট্যাগ শুধু একটি স্বীকৃতিই নয়(West Bengal GI Tag)
এটি সংশ্লিষ্ট এলাকার ঐতিহ্য, কারিগরদের দক্ষতা এবং পণ্যের স্বাতন্ত্র্যকে আইনি সুরক্ষা দেয়। এর ফলে যেমন নকল পণ্যের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হবে, তেমনই দেশ-বিদেশের বাজারে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও খাদ্যপণ্যের চাহিদাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

