Taslima Nasrin
Bengal Liberty: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আবারও কলকাতায় ফেরার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কলকাতায় ফিরতে চান তসলিমা (Taslima Nasrin)
লেখিকার কথায়, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর কলকাতাই তাঁর কাছে ‘ঘর’ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ২০০৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তাঁকে শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘ সময়ে কোনো সরকারই তাঁকে আর কলকাতায় ফেরার অনুমতি দেয়নি। বর্তমান সরকার তোষণ রাজনীতির অবসান ঘটাচ্ছে দাবি করে তসলিমা জানান, তিনি স্থায়ীভাবে কলকাতায় থাকতে চান এবং এজন্য রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখতে প্রস্তুত। কলকাতায় আন্তর্জাতিক বইমেলা বা বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের তীব্র আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

কেন্দ্রের সবুজ সংকেত (Taslima Nasrin)
ইতিমধ্যেই ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তসলিমা নাসরিনের ভারত বা কলকাতার যেকোনো স্থানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ জানিয়েছেন, তসলিমাকে উপযুক্ত শ্রেণির ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমান বিধিনিষেধ মেনে ভারতের যেকোনো প্রান্তে যাতায়াত করতে পারেন।

নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় (Taslima Nasrin)
সরকারিভাবে বাধা না থাকলেও, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা চিন্তিত লেখিকা। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমি যাওয়ার পরে যদি কেউ অপ্রীতিকর কিছু ঘটান, তাতে কী হতে পারে তা নিশ্চিত নই। আমার জন্য কোথাও অশান্তি হোক, তা আমি চাই না।’’
সংসদের বাজেট অধিবেশনে শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে তসলিমাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে কলকাতায় ফেরানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এখন রাজ্য সরকারের অবস্থান এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ওপরই নির্ভর করছে তসলিমার বহু প্রতীক্ষিত এই প্রত্যাবর্তন।

