Afghanistan Pakistan conflict
Bengal Librety Kolkata:
পাকিস্তানের (Pakistan) বিমান হামলার জেরে সীমান্ত পরিস্থিতি যখন তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ, ঠিক তখনই পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেয় আফগানিস্তান (Afghanistan Pakistan conflict)। নানগড়হর এবং পাকটিকা প্রদেশে হামলার পরে পাকিস্তানকে সতর্ক করে হুমকি দিয়েছিল কাবুল (Kabul)। ‘সময়মতো উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় (Kabul warning Pakistan)। তারপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আফগানিস্তান।
আজ, মঙ্গলবার পাকিস্তানের উপর বিমান হামলায় ৫০ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করে আফগানিস্তান।

যুদ্ধের কারণ? Afghanistan Pakistan conflict
উল্লেখ্য, শনিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগড়হর ও পাকটিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানের সেনা। ইসলামাবাদের দাবি, ওই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেটের সহযোগী সংগঠনগুলির ঘাঁটি ধ্বংস করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের মতে, অভিযানে অন্তত ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
তবে এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে আফগানিস্তানের শাসক গোষ্ঠী তালিবান। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সীমা লঙ্ঘন করে নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ জানান, হামলায় মহিলা ও শিশু-সহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেহসুদ জেলায়। পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ অক্ষমতা ঢাকতেই এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর পরেই কড়া বার্তা দেয় আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ধর্মীয় স্থান ও সাধারণ মানুষের উপর হামলার অভিযোগ তুলে ‘সময়োপযোগী এবং উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় কাবুল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের বার্তা Afghanistan Pakistan conflict
পাকিস্তানের হামলার পর আফগান সেনাদের তরফে X পোস্ট করে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা করে আফগানিস্তান। সোমবার করা ওই পোস্টে বলা হয়, “আমরা একটি যুদ্ধ লড়ছি… আজ রাত হবে পাকিস্তানের শেষ রাত।” তারপরই মঙ্গলবার সকালে আরও একটি পোস্টে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের উপর বিমান হামলায় ৫০ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে।

আফগানিস্তানের অভিযোগ, বারবার তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে পাকিস্তান। সেই কারণেই এবার কড়া বার্তা দিতে চায় আফগানিস্তান, আর কোনো আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। দুই দেশের এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে কাবুলের স্পষ্ট বার্তা, আঘাত এলে জবাবও আসবে, আর সেই জবাব হতে পারে আরও কঠোর।
