Ali Khamenei Assassination Plan
Bengal Liberty Desk, ৬ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল এক বিস্ফোরক দাবির জেরে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইকে হত্যার পরিকল্পনা নাকি তৈরি হয়েছিল অন্তত ৯০ দিন আগেই। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এই অভিযানের সিদ্ধান্ত গোপনে নিয়েছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Ali Khamenei Assassination Plan)।
গোপন বৈঠকে খামেনেইকে সরানোর লক্ষ্য ছিল (Ali Khamenei Assassination Plan)

ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাটজ দাবি করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই নাকি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইকে হত্যাই হবে মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি, অর্থাৎ জুন মাস নাগাদ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার কথা ছিল। প্রথম দিকে এই পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানানোও হয়নি। কারণ, সেই সময়ে ইজরায়েলের ভাবনা ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ তারা একাই নেবে।
তবে পরে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ইজরায়েলের আশঙ্কা ছিল, ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই সমস্যার মূল উৎসকেই নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন কাটজ।
পরিস্থিতির বদলে এগিয়ে আসে অভিযান, যুক্ত হয় আমেরিকাও (Ali Khamenei Assassination Plan)

কাটজের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকেই ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চরমে পৌঁছয় এবং বহু মানুষ খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের আশঙ্কা তৈরি হয়, অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ে ইরান যে কোনও সময় ইজরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড়সড় হামলা চালাতে পারে। সেই কারণেই সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাকে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপরই ইজরায়েল তাদের পরিকল্পনার কথা জানায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। কাটজের দাবি, এরপর দুই দেশ যৌথভাবে অভিযানের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করে। লক্ষ্য ছিল-ইরান যাতে আগে আঘাত হানতে না পারে। এই সিদ্ধান্তের পর নির্ধারিত সময়ের আগেই অভিযান শুরু করা হয়। কাটজের কথায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। সেই হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযানে ইরানের একাধিক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারও মৃত্যু হয় বলে তাঁর দাবি।
আরও পড়ুন (Ali Khamenei Assassination Plan)-
Trump Warning to Cuba: ইরান শেষ হলেই নজর ঘুরবে কিউবার দিকে, জমানা বদলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!
Trump Iran War Powers Vote: ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াতে ট্রাম্পকে আটকাতে ব্যর্থ কংগ্রেস, সেনেট ও হাউস-দুই কক্ষেই খারিজ প্রস্তাব
উত্তেজনার আগুনে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া (Ali Khamenei Assassination Plan)
এই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
