White Nationalists
Bengal Liberty
৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস(White Nationalists) পালনের দিনেই দেশজুড়ে এক চরম বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এদিন দেখা গেছে, একদল যুবক মুখে মুখোশ এবং হাতে বেসবল ব্যাট নিয়ে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা নিজেদের শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা এরা, কী এদের উদ্দেশ্য—তা নিয়ে গোটা আমেরিকা জুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকের মতো আবারও কি ‘কু ক্লাক্স ক্ল্যান’ (KKK)-এর মতো উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী দল আমেরিকা জুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? এই নিয়ে এখন তুঙ্গে তরজা। বোস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও শহরগুলিতে এই নতুন জাতীয়তাবাদী সংগঠনের সদস্যদের দাপট দেখা গেছে।
এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো মুখ না খুললেও, এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আবারও কু ক্লাক্স ক্ল্যানের নৃশংস ইতিহাসের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এই ধরনের উগ্র শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংগঠনগুলি অতীতে আফ্রিকান-মার্কিন অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ম্যালকম এক্স এবং তাঁর পরিবারের ওপর একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল।
কু ক্লাক্স ক্ল্যানের ইতিহাস(White Nationalists)
কু ক্লাক্স ক্ল্যান বা ‘কেকেকে’ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উগ্র শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী এবং চরম দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন। ১৮৬৫ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর গঠিত এই সংগঠনটি আফ্রিকান-আমেরিকান, ইহুদি, ক্যাথলিক এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ঘৃণা ছড়ানো এবং বর্ণবাদী কার্যকলাপের জন্য কুখ্যাত।

প্রথম যুগ (১৮৬৫-১৮৭০)(White Nationalists)
দক্ষিণ টেনেসিতে প্রাক্তন কনফেডারেট সৈন্যদের দ্বারা এই দলটি গঠিত হয়। এদের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের সদ্য পাওয়া নাগরিক অধিকার দমন করা এবং শ্বেতাঙ্গদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা।

দ্বিতীয় যুগ (১৯১৫-১৯৪৪)(White Nationalists)
অভিবাসীবিরোধী, ক্যাথলিকবিরোধী এবং ইহুদিবিরোধী মনোভাবের ওপর ভিত্তি করে, বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও প্রচারণার মাধ্যমে এই সময়কালে সংগঠনটি দেশব্যাপী বিশাল আকার ধারণ করে।
আরো পড়ুন:-
তৃতীয় যুগ (১৯৪৬-বর্তমান)(White Nationalists)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, দলটির বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন শাখা নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং বর্ণবৈষম্যবিরোধী নীতিগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংসতা চালাতে শুরু করে। এই সংগঠনের সদস্যরা মূলত সাদা রঙের বিশেষ পোশাক এবং মাথা ঢাকা লম্বা টুপি পরে নিজেদের গোপনীয়তা বজায় রাখে।

বর্তমানে মূল সংগঠনের প্রভাব অনেকটাই কমে গেলেও, আমেরিকার স্বাধীনতা উদযাপনের দিনেই ফের একই ভাবধারার একটি উগ্র সংগঠনের উদয় হলো। এর ফলে কি আবারও কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার বিঘ্নিত হবে? এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

