Calcutta High court
Bengal Liberty : রাজ্যে বহু বিতর্কিত ‘গুন্ডাদমন আইন’ কার্যকর হওয়ার দিনেই তা নিয়ে শুরু হল আইনি লড়াই (Calcutta High court)। রাজ্যের গুন্ডা দমন আইনের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের। সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে এই আবেদন করেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। মামলা দায়ের করার পরেই শুনানি হবে জানিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। একদিকে রাজ্য সরকার এই আইনকে সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, আইনের বিশেষ ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও এটি ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে আইন কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই তা আদালতের দ্বারস্থ (Calcutta High court)।

হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (Calcutta High court)
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি চান আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যের নতুন গুন্ডাদমন আইনের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন। উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই, সোমবার থেকেই রাজ্যে ‘গুন্ডাদমন আইন’ কার্যকর হওয়ার কথা। গত শুক্রবার বহরমপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বিধানসভায় বিল পাশ হওয়ার পর রাজ্যপাল তাতে অনুমোদন দিয়েছেন এবং সোমবার থেকেই নতুন আইন কার্যকর হবে।

কী রয়েছে নতুন আইনে, কেন উঠছে বিতর্ক? (Calcutta High court)
‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামে পরিচিত এই আইনটি ২৯ জুন বিধানসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর পাস হয়। আইনে পুলিশকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন আইনের অধীনে কোনও ব্যক্তিকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত বলে মনে হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এক বছর পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কার্যকলাপ, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রেও এই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, এই আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল রাজ্যকে গুন্ডামুক্ত করা এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। বিধানসভায় আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং একাধিক মন্ত্রীও দাবি করেছিলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইন আনা হয়েছে।


