Lahek Ali
Bengal Liberty : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। গণপিটুনিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে রবিবার রাতে সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলিকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Lahek Ali)। বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী ছিলেন তিনি। এই গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। লায়েক আলির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে বামেরা (Lahek Ali)। সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর পর লাহেক ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হচ্ছে।”

সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য (Lahek Ali)
সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী লাহেক আলির গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, এটি সম্পূর্ণভাবে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার”। তাঁর দাবি, বারুইপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বাম প্রার্থী লাহেক আলিকে রবিবার রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ এবং তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। সুজনের কথায়, “যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাহেক আলিকে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে, সেই গণপিটুনির ঘটনার পরেই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। তদন্ত করলেই বা মিডিয়ার ফুটেজ দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।” তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে লাহেক আলিকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং বিরোধীদের ভয় দেখাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “তদন্ত শুরুর আগেই যদি কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলে দেওয়া হয়, ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয় কিংবা অপরাধের ব্যাখ্যা তৈরি করে দেওয়া হয়, তাহলে তাকে আইনের শাসন বলা যায় না।”
বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে অভিযোগ উঠত, বিজেপিও কি একই পথে হাঁটছে? সরকার যদি রাজনৈতিক রং লাগিয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” শেষে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, “সরকার যেভাবে চলছে, তা আইনি পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আইন মেনেই সরকার চলুক, এটাই মানুষের দাবি হওয়া উচিত।”

অশান্তির নেপথ্যে রাজনৈতিক উস্কানির অভিযোগ (Lahek Ali)
বারুইপুরের অশান্তির পিছনে রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং “যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাঁদের উস্কানিতেই এই ঘটনা ঘটেছে”। সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হল সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলিকে। লাহেক আলির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, দাঙ্গা, সরকারি কর্মীদের ওপর হামলা, জনসম্পত্তি নষ্ট, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং অশান্তিতে ইন্ধন জোগানোর মতো একাধিক অপরাধ। পাশাপাশি রেলওয়ে আইনের বিভিন্ন ধারাতেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সোমবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

আরও পড়ুন :
Baruipur: সূর্যপুর কাণ্ড: পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি

